দায়িত্ব হস্তান্তর পত্র: নমুনা ও লেখার নিয়ম

দায়িত্ব হস্তান্তর পত্রে লিখতে হয়: তারিখ, কোন পদের দায়িত্ব, হস্তান্তরকারী ও গ্রহণকারীর নাম, হস্তান্তরের কারণ, কী কী বুঝিয়ে দেওয়া হলো (নথি, মালামাল, চাবি, সীল, টাকা ও হিসাব), এবং দুই পক্ষ ও সাক্ষীর স্বাক্ষর। সাথে মালামালের তালিকা ও টাকার হিসাব বিবরণী সংযুক্ত থাকে। নিচে তিনটি কাগজেরই নমুনা দেওয়া হলো।

মাদ্রাসার দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ পত্রের নমুনা (ফ্রি Word টেমপ্লেট)
ফ্রি ডাউনলোড (রেজিস্ট্রেশন লাগে না): দায়িত্ব হস্তান্তর পত্রের Word টেমপ্লেট (.docx)। তিনটি পাতা: দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ পত্র, মালামাল ও নথি হস্তান্তরের তালিকা (১১টি সাধারণ বিষয় আগে থেকে লেখা), এবং টাকা ও হিসাব হস্তান্তরের বিবরণী। টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন

দায়িত্ব হস্তান্তর পত্র কেন দরকার?

মাদ্রাসায় দায়িত্ব বদলের সময়ই সবচেয়ে বেশি কাগজ ও হিসাব হারায়। পুরনো মুহতামিম চলে যাওয়ার পর দেখা যায় কোনো রেজিস্টার নেই, রশিদ বইয়ের হিসাব মিলছে না, অথবা ব্যাংকের চেক বই কার কাছে তা কেউ জানে না। লিখিত হস্তান্তর পত্র দুই পক্ষকেই রক্ষা করে: বিদায়ী ব্যক্তি প্রমাণ পান যে তিনি সব বুঝিয়ে দিয়েছেন, আর নতুন জন জানেন ঠিক কী কী তার দায়িত্বে এলো।

হস্তান্তর পত্রে কী কী থাকে?

অংশকী লিখবেন
তারিখ ও সময়হস্তান্তরের দিন, পূর্বাহ্ণ না অপরাহ্ণ
পদকোন পদের দায়িত্ব হস্তান্তর হচ্ছে
দুই পক্ষহস্তান্তরকারী ও গ্রহণকারীর নাম ও পদবি
কারণবদলি, পদত্যাগ, মেয়াদ শেষ বা কমিটির সিদ্ধান্ত (সভা নম্বরসহ)
কী বুঝিয়ে দেওয়া হলোনথি, রেজিস্টার, মালামাল, চাবি, সীল, টাকা ও ব্যাংকের কাগজ
দায়ের সীমাআজ পর্যন্ত দায় হস্তান্তরকারীর, এরপর গ্রহণকারীর
সংযুক্তিমালামালের তালিকা, টাকা ও হিসাবের বিবরণী
স্বাক্ষরহস্তান্তরকারী, গ্রহণকারী, সাক্ষী, সভাপতি বা সেক্রেটারি

নমুনা: দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ পত্র

দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ পত্র

স্মারক নং: …….. তারিখ: ……..

আজ …….. তারিখ (…….. বার) পূর্বাহ্ণে / অপরাহ্ণে [মাদ্রাসার নাম] এর …….. পদের দায়িত্ব নিচে উল্লিখিত দুই ব্যক্তির মধ্যে হস্তান্তর ও গ্রহণ করা হলো।

দায়িত্ব হস্তান্তরকারী: জনাব …….., পদবি: ……..
দায়িত্ব গ্রহণকারী: জনাব …….., পদবি: ……..

হস্তান্তরের কারণ: …….. (বদলি / পদত্যাগ / মেয়াদ শেষ / কমিটির সিদ্ধান্ত, সভা নং ……..)।

হস্তান্তরকারী তার দায়িত্বে থাকা সকল নথিপত্র, রেজিস্টার, মালামাল, চাবি, সীল এবং হাতে থাকা টাকা ও ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং গ্রহণকারী তা বুঝে নিয়েছেন।

আজকের তারিখ পর্যন্ত সকল লেনদেন ও সিদ্ধান্তের দায় হস্তান্তরকারীর এবং আজকের পর থেকে দায়িত্ব গ্রহণকারীর উপর বর্তাবে।

হস্তান্তরকারীর স্বাক্ষর | গ্রহণকারীর স্বাক্ষর | সাক্ষী | সভাপতি / সেক্রেটারি

মালামাল ও নথির তালিকায় কী কী থাকে?

টেমপ্লেটের দ্বিতীয় পাতায় একটি ছক আছে (ক্রমিক, নাম, সংখ্যা, অবস্থা, মন্তব্য), যেখানে এই জিনিসগুলো আগে থেকে লেখা। প্রতিটির পাশে সংখ্যা ও অবস্থা লিখে নিন:

  • ভর্তি রেজিস্টার
  • হাজিরা খাতা (ছাত্র ও শিক্ষক)
  • রেজুলেশন খাতা
  • হিসাব খাতা ও ভাউচার ফাইল
  • রশিদ বই (ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত)
  • ফলাফলের খাতা ও সনদ রেজিস্টার
  • শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ফাইল
  • মাদ্রাসার সীল ও প্যাড
  • চাবি (অফিস, আলমারি, গুদাম)
  • জমির দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজ
  • সফটওয়্যারের লগইন ও পাসওয়ার্ড

টাকা ও হিসাব হস্তান্তরের বিবরণী

তৃতীয় পাতার ছকে সাতটি সারি আছে, প্রতিটির পাশে টাকার অংক লিখতে হয়:

বিবরণকীভাবে বের করবেন
হাতে থাকা টাকা (জেনারেল তহবিল)দুজন মিলে গুনে
হাতে থাকা টাকা (লিল্লাহ / যাকাত তহবিল)আলাদা করে গুনে
ব্যাংক হিসাবের ব্যালেন্সসর্বশেষ স্টেটমেন্ট দেখে
শিক্ষকদের কাছে অগ্রিম পাওনাঅগ্রিম রেজিস্টার থেকে
ছাত্রদের বকেয়া বেতন (মোট)বকেয়ার তালিকা থেকে
মাদ্রাসার দেনাবকেয়া বেতন, দোকানের বাকি

এর সাথে চেক বইয়ের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত পাতার নম্বর, অব্যবহৃত রশিদ বইয়ের সংখ্যা এবং সর্বশেষ রশিদ ও ভাউচার নম্বর লিখে রাখতে হয়।

দায়িত্ব হস্তান্তরের ধাপ

  1. হস্তান্তরের তারিখ ঠিক করে কমিটিকে জানান।
  2. হস্তান্তরকারী তার আগে সব খাতা হালনাগাদ করবেন এবং হিসাব মিলিয়ে রাখবেন।
  3. নির্ধারিত দিনে দুই পক্ষ ও সাক্ষী একসাথে বসে তালিকা ধরে প্রতিটি জিনিস দেখে নিন।
  4. হাতের টাকা গুনুন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখুন এবং বিবরণী পূরণ করুন।
  5. কিছু না মিললে মন্তব্যের ঘরে স্পষ্ট লিখুন।
  6. তিনটি কাগজেই সবার স্বাক্ষর নিন। প্রতিটির তিন কপি: দুই পক্ষ ও অফিস।
  7. ব্যাংকে স্বাক্ষরকারী বদলানোর জন্য কমিটির রেজুলেশনসহ আবেদন করুন।
  8. সফটওয়্যারে নতুন ইউজার খুলে পুরনো লগইন বন্ধ করুন।
একজন শিক্ষক চলে গেলে তার দরস, কিতাব ও খাতা বুঝে নেওয়ার জন্য ছোট একটি তালিকাই যথেষ্ট। তার নমুনা শিক্ষকের পদত্যাগ পত্র পাতার তৃতীয় নমুনায় আছে।

হস্তান্তরের দিন হিসাব কোথা থেকে পাবেন?

হস্তান্তরে সবচেয়ে সময় লাগে বকেয়ার মোট অংক, তহবিলভিত্তিক জের ও অগ্রিমের হিসাব বের করতে। Edurence সফটওয়্যারে বেতন আদায়, দান ও খরচ তোলা থাকলে যেকোনো তারিখের আয় ব্যয়ের রিপোর্ট এবং বকেয়ার তালিকা প্রিন্ট করা যায়, যা হস্তান্তর বিবরণীর সাথে জুড়ে দেওয়া যায়। প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা লগইন থাকে এবং কাকে কোন কাজের অনুমতি দেওয়া হবে তা একজন একজন করে ঠিক করা যায়, তাই নতুন দায়িত্বশীলকে তার কাজ অনুযায়ী অনুমতি দিয়ে পুরনো লগইন বন্ধ করা যায়। রশিদ বই কার কাছে আছে তার হিসাবও থাকে। বিস্তারিত আয় ব্যয় হিসাব পাতায় আছে।

দায়িত্ব বদলালেও হিসাব যেন ঠিক থাকে, এমন ব্যবস্থা চান?

Edurence মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ছাত্র, হিসাব ও রিপোর্ট একই জায়গায় থাকে এবং প্রত্যেকের আলাদা লগইন থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

দায়িত্ব হস্তান্তর পত্র কখন লাগে?
যখন মুহতামিম, হিসাবরক্ষক, কোষাধ্যক্ষ বা কমিটি বদল হয়। পুরনো দায়িত্বশীল কী কী বুঝিয়ে দিলেন এবং নতুন জন কী বুঝে নিলেন, তার লিখিত প্রমাণ এই পত্র। এটি ছাড়া পরে কোনো কিছু হারালে বা হিসাবে গরমিল হলে কার দায় তা বোঝা যায় না।
হস্তান্তরের সময় কারা উপস্থিত থাকবেন?
হস্তান্তরকারী, গ্রহণকারী এবং অন্তত একজন সাক্ষী, সাধারণত কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি বা কোষাধ্যক্ষ। টাকার হিসাব হস্তান্তরে কোষাধ্যক্ষের উপস্থিতি জরুরি।
টাকার হিসাব কীভাবে মেলাব?
হস্তান্তরের দিন হিসাব খাতার সর্বশেষ জের বের করুন। তারপর দুজন মিলে হাতের টাকা গুনুন এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টের ব্যালেন্স দেখুন। খাতার জের, হাতের টাকা ও ব্যাংক ব্যালেন্স মিললে তবেই বিবরণীতে স্বাক্ষর করুন।
কিছু না মিললে কী করব?
না মেলা জিনিস বা টাকার অংক পত্রে স্পষ্ট লিখুন এবং দুই পক্ষ ও সাক্ষীর স্বাক্ষর নিন। তারপর বিষয়টি কমিটিকে জানান। গরমিল চেপে রেখে স্বাক্ষর করলে দায় নতুন দায়িত্বশীলের উপর চলে আসে।
সফটওয়্যারের লগইন কি হস্তান্তর করতে হয়?
পুরনো ব্যক্তির পাসওয়ার্ড নতুন জনকে দেওয়ার চেয়ে নতুন জনের জন্য আলাদা ইউজার খুলে পুরনো লগইন বন্ধ করে দেওয়া নিরাপদ। এতে কে কখন কোন কাজ করেছেন তার রেকর্ড আলাদা থাকে।

Edurence মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার।

আমাদের আরও আর্টিকেল পড়ুন

আরো দেখুন